কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬ এ ০৩:২৮ PM
কৌলিসম্পদ ও বীজ বিভাগ
কন্টেন্ট: পাতা
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর ধানের জাত উন্নয়ন কর্মসূচীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলো কৌলিসম্পদ ও বীজ (Genetic Resources and Seed-GRS) বিভাগ। ব্রি-তে ১৯৭৪ সালে জিনব্যাংক (Genebank) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশী-বিদেশী নানা উৎস থেকে সংগৃহিত ও প্রাপ্ত ধানের বীজ (germplasm) পদ্ধতিগতভাবে সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছিল উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের তত্ত্বাবধানে। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে কৌলিসম্পদ ও বীজ বিভাগ নামে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। বীজ সংরক্ষণের জন্য ভৌত ও কারিগরি সুবিধাদির ব্যাপক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন ঘটিয়ে ২০০৭ সাল নাগাদ একটি পূর্ণাঙ্গ, আধুনিক দীর্ঘ-মেয়াদী ধান জিনব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়।
এই বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে: স্থানীয় ও বিদেশী ধানের জাত এবং জার্মপ্লাজম অনুসন্ধান, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পিউরিফিকেশন (purification) ও রিজুভিনেশন (rejuvenation), অঙ্গসংস্থানগত (morphological) ও মলিকুলার (molecular) বৈশিষ্ট্য নিরূপন মূল্যায়ণ, ভৌগলিক নির্দেশক পন্য হিসেবে স্থানীয় ধানের জাতের নিবন্ধন, বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিন বা QTL সনাক্তকরণ, ধানের germplasm ও বীজ প্রযুক্তি সংক্রান্ত গবেষণা। এই বিভাগের উল্লেখযোগ্য অর্জনগূলো হলো: একটি সুগন্ধী ধানের জাতসহ ১৮টি ধানের জাত উদ্ভাবনে জার্মপ্লাজম ও কারিগরি সহায়তা প্রদান, ৯,১২৮টি ধানের জার্মপ্লাজম (যার মধ্যে ১,৬৬৪টি বিদেশী ইন্ডিকা ও ১১১টি জাপোনিকা ধানের জাত) জিনব্যাংকে নিবন্ধন এবং ১২০০টি এর বেশী ধানের জাতের বিভিন্ন বায়োটিক এবং এবায়োটিক ঘাত সহিষ্ণুতা মূল্যায়ন, প্রায় ১৮৪৪টি ধানের জার্মপ্লাজম SSR marker দ্বারা মলিকুলার পর্যায়ে বৈশিষ্ট্যায়ন, বাংলাদেশ কালিজিরা এবং দিনাজপুর কাটারিভোগ নামে বাংলাদেশের ভৌগলিক নির্দেশক পন্য হিসেবে ২টি স্থানীয় ধানের জাত নিবন্ধন, নিউক্লিয়াস বীজসহ ১১৭টি ব্রি উদ্ভাবিত (ব্রি ধান১১৮ পর্যন্ত) এবং ২২টি ব্রি সুপারিশকৃত ধানের জাত রক্ষণাবেক্ষণ, প্রতি বছর প্রায় ২০০ টনের অধিক ব্রিডার বীজ বিএডিসিসহ প্রায় ১০০০ সীডনেট পার্টনারকে সরবরাহ করা। ফলে, জাতীয়ভাবে ‘প্রাতিষ্ঠানিক খাত’ হতে ধান বীজের সরবরাহ ৫% থেকে প্রায় ৩১% এ উত্তীর্ণ হয়েছে। এভাবে এই বিভাগ সরাসরি ক্ষুধা মুক্তি এবং খাদ্য নিরাপত্তায় ভুমিকা রেখে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে সহায়তা করছে।