বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৬ এপ্রিল ২০১৯

উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের সাফল্য

১। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে প্রতিকূল ও অপ্রতিকূল পরিবেশ উপযোগী উচ্চ ফলনশীল আধুনিক ধানের জাত উদ্ভাবন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এই পর্যন্ত ৯৪ টি (৮৮ টি ইনব্রিড ও ৬ টি হাইব্রিড) উচ্চ ফলনশীল আধুনিক ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে।

তম্মধ্যেঃ

  •  ৪১ টি জাত বোরো মৌসুমের জন্য (বোরো ও আউশ উভয় মৌসুম উপযোগী)
  • ২৪ টি জাত আউশ মৌসুম উপযোগী
  • ৪২ টি জাত রোপা আমন মৌসুম উপযোগী
  • ১২ টি জাত বোরো ও আউশ উভয় মৌসুম উপযোগী
  • ১ টি জাত বোরো, আউশ এবং আমন মৌসুম উপযোগী

২। উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ অজৈব ঘাত সহনশীল যেমন লবণাক্ততা, বন্যা, খরা, শৈতপ্রবাহ ইত্যাদি সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছে।

৩। অত্র বিভাগ কর্তৃক লবণাক্ততা সহনশীল বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি ধান৪৭, ব্রি ধান৬১ এবং ব্রি ধান৬৭ আধুনিক ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে যা চারা অবস্থায় ১২-১৪ ডিএস/মি. এবং সম্পূর্ণ জীবনচক্রে ৬-৮ ডিএস/মি. লবণাক্ততা সহনশীল। তাছাড়া, ব্রি ধান৪০, ব্রি ধান৪১, ব্রি ধান৫৩, ব্রি ধান৫৪ এবং ব্রি ধান৭৩ এই জাতগুলো আমন মৌসুমে প্রজনন পর্যায়ে ৮ ডিএস/মি. লবণাক্ততা সহনশীল।

৪। দুটি বন্যা সহনশীল ধানের জাত যথা ব্রি ধান৫১ এবং ব্রি ধান৫২ উদ্ভাবন করা হয়েছে যা দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বন্যা সহনশীল।

৫। ৪ টি খরা সহনশীল আধুনিক ধানের জাত যথা ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৫৭, ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭১ উদ্ভাবন করা হয়েছে যেগুলো বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য খুবই উপযোগী।

৬। রোপা আমন মৌসুমের জন্য দুটি জিংক সমৃদ্ধ জাত ব্রি ধান৬২ এবং ব্রি ধান৭২ (স্বল্প জীবনকাল) উদ্ভাবন করা হয়েছে যেগুলো যথাক্রমে ২০ এবং ২২.৮ পিপিএম মাত্রার জিংক সমৃদ্ধ, বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি ধান৬৪ উদ্ভাবন করা হয়েছে যা ২৫.৫ পিপিএম মাত্রার জিংক সমৃদ্ধ।

৭। ব্রি ধান৫০ যার জনপ্রিয় নাম বাংলামতি (বাসমতীর ন্যায়) এবং ব্রি ধান৬৩ (সরু বালামের ন্যায়), এই দুইটি প্রিমিয়াম বৈশিষ্টের ধানের জাত অনুকূল বোরো মৌসুমের জন্য উপযোগী।

৮। উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ Marker Assisted Breeding পদ্ধতি প্রয়োগ করে আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ধানের জাতসমূহের মধ্যে বিভিন্ন ঘাত যেমন বন্যা, লবণাক্ততা, ঠান্ডা সহনশীল এবং রোগ প্রতিরোধী জিন প্রবেশ করিয়ে ঘাত সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে সফলতা লাভ করেছে।

৯। আধুনিক ধানের জাত যেমন বিআর১৭, বিআর১৮, বিআর১৯ হাওড় এলাকার বোরো মৌসুমের জন্য অধিক উপযোগী। তাছাড়া বিআর১৮ এবং ব্রি ধান৩৬ চারা অবস্থায় ঠান্ডা সহনশীল হওয়ায় ঠান্ডা প্রবণ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য খুবই উপযোগী।

১০। বিআর২০, বিআর২১, বিআর২৪, ব্রি ধান৪২, ব্রি ধান৪৩ এবং ব্রি ধান৬৫ অতি বৃষ্টির উঁচু জমিতে আউশ মৌসুমে সরাসরি ছিটিয়ে বোনার জন্য অধিক উপযোগী। আলোক-সংবেদনশীল বিআর২২, বিআর২৩ এবং ব্রি ধান৪৬ নাবী রোপা আমন মৌসুমে বন্যার পানি চলে যাওয়ার পর এই জাতগুলো অধিক উপযোগী।

১১। আউশ মৌসুমে অলবণাক্ত জোয়ার-ভাটা অঞ্চলের জন্য ব্রি ধান২৭, রোপা আমন মৌসুমের অলবণাক্ত জোয়ার-ভাটা অঞ্চলের জন্য ব্রি ধান৪৪ এবং বৃষ্টি প্রবণ নিম্নভূমি অঞ্চলের জন্য ব্রি ধান৩০, ব্রি ধান৩১ ও ব্রি ধান৩২ উদ্ভাবন করা হয়েছে।

১২। বিআর১০, বিআর২৩ এবং ব্রি ধান৩০ এই জাতগুলো বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলের জলাবদ্ধ অঞ্চলের জন্য অধিক উপযোগী।

১৩। উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ রোপা আউশ মৌসুমের জনপ্রিয় উচ্চফলনশীল ধানের জাত ব্রি ধান৪৮ এবং রোপা আমন মৌসুমের জন্য নাজিরশাইলের ন্যায় দানা বিশিষ্ট ব্রি ধান৪৯ যা বিআর১১ এর তুলনায় এক সপ্তাহ আগাম,এই দুটি জাত উদ্ভাবন করেছে।

১৪। অত্র বিভাগ কর্তৃক বোরো মৌসুমের জন্য তিনটি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত ব্রি ধান৫৮, ব্রি ধান৫৯ এবং ব্রি ধান৬০ উদ্ভাবন করা হয়েছে।

১৫। ব্রি ধান৫৮ সর্বপ্রথম জাত যা ব্রি ধান২৯ হতে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে উদ্ভাবন করা হয়েছে। ব্রি ধান৫৮ হচ্ছে ব্রি ধান২৯ এর চেয়ে এক সপ্তাহ আগাম কিন্তু ফলন ব্রি ধান২৯ এর ন্যায়। আশা করা যায় ব্রি ধান২৯ কে ব্রি ধান৫৮ দ্বারা প্রতিস্থাপন করা যাবে।

১৬। ব্রি ধান৫৯ এবং ব্রি ধান৬০ দুটি আধুনিক ধানের জাতের জীবনকাল ব্রি ধান২৮ এবং ব্রি ধান২৯ এর মাঝামাঝি। উলেস্নখ্য যে, ব্রি ধান৬০ এর দানার আকার অতিরিক্ত লম্বা ও চিকন।

১৭। ব্রি ধান৬৮ অনুকূল বোরো মৌসুমের জন্য উদ্ভাবন করা হয়েছে যার চাল মাঝারি মোটা, হেলে পড়া সহনশীল এবং ব্রি ধান২৮ এর চেয়ে ১৩% অধিক ফলন দেয় কিন্তু এটা ব্রি ধান২৮ এর চেয়ে এক সপ্তাহ বেশি জীবনকাল সম্পন্ন। ব্রি ধান৬৯ উপকরণ সাশ্রয়ী বোরো মৌসুমের উচ্চ ফলনশীল জাত যা ৯.০ টনের অধিক ফলন দেয় এবং ১৫৩ দিনের জীবনকাল বিশিষ্ট।

১৮। ব্রি ধান৭০ লম্বা চিকন সুগন্ধি ধানের জাত যা রোপা আমন মৌসুমের জন্য স্বল্প জীবনকাল বিশিষ্ট (১৩০ দিন) এবং ফলন ক্ষমতা ৫.০ টন/হেক্টর ।

১৯। অত্র বিভাগের বিজ্ঞানীগণ দক্ষ জনসম্পদ তৈরির অংশ হিসেবে মাস্টার্স ও পিএইচডি ছাত্র-ছাত্রীদের সুপারভাইজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আধুনিক ধানের জাত ও প্রজনন পদ্ধতির বিষয়ে ছাত্র-ছত্রীবৃন্দ, কৃষকগণ, NARS বিজ্ঞানীবৃন্দ, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং NGO কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন।

২০। অত্র বিভাগ কর্তৃক বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র, বার্ষিক প্রতিবেদন, গবেষণা পুস্তিকা, অবমুক্ত জাতসমূহের লিফলেট ও বুলেটিন প্রকাশ করা হয়েছে।



Share with :

Facebook Facebook